প্রাণঘাতি মহামারি করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে এক ভয়ানক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। করোনার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ হয়ে আছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের খেলাও। আর এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে বিশ্ব ফুটবলের সদস্য দেশের ফেডারেশনগুলোও।
সদস্য দেশগুলোর কথা মাথায় রেখে করোনার এই সময় বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা কোভিড-১৯ সহায়তা ফান্ড গঠন করেছে। যে ফান্ড থেকে প্রত্যেক দেশকে দেওয়া হবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি অর্থ মূল্যে সাড়ে আট কোটি টাকার সমান। সে ফান্ড থেকে করোনা সহায়তা হিসেবে সাড়ে আট কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। সদস্য দেশগুলো করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ। তা কাটাতে যে ত্রাণ তহবিল গঠন করেছে ফিফা সেখান থেকে আমরাও ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা) পাবো।’
তবে এই টাকা এককালীন দিবে না ফিফা। দুই কিস্তিতে দিবে বলে জানিয়েছে বাফুফের এই সাধারণ সম্পাদক। প্রথম অর্ধেক দেবে জুলাইয়ে। বাকি অর্থ দেবে আগামী জানুয়ারিতে। এদিকে নারী ফুটবলের উন্নতিতে আরও ৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে ফিফার। তবে সেক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে তাদের। আর তাই সেখান থেকে কত কী, বা আদৌ পাবে কি না এই বিষয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, ‘করোনা সহায়তা ছাড়াও মহিলা ফুটবলের উন্নয়নে আরো ৫ লাখ মার্কিন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। জানুয়ারিতে এ অর্থ দেবে ফিফা। তবে নারী ফুটবলের অর্থটা নির্ভর করবে বিভিন্ন শর্তের ওপর। তাই এখনই বলা যাবে না ওই খাত থেকে কি পরিমাণ অর্থ পাবো। তবে কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল থেকে দুই কিস্তিতে ১০ লাখ ডলার পাবো এটা বলা যায়।’
এই অনুদান সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিতে কড়া নজরদারি থাকবে ফিফার। এছাড়া ফিফা প্রত্যেক দেশকে যে বার্ষিক অনুদান দিয়ে থাকে সেটাও অব্যাহত থাকবে। এই অনুদান ছাড়াও মহিলা ফুটবলের জন্য দেয়া হবে ৫ লাখ ডলার। এছাড়া সদস্য দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব আয় অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার ঋণ দিতেও রাজি হয়েছে ফিফা। এই ঋণের টাকা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন ফুটবল কাব, খেলোয়াড় ও লিগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার করতে পারবে বাফুফে। এদিকে দীর্ঘ বিরতি শেষে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এএফসি কাপের ম্যাচ দিয়ে আবার মাঠে ফিরবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।