বর্তমানে স্মার্ট ফোন যতটা জনপ্রিয় ঠিক ততটাই জনপ্রিয় ইয়ারফোন, হেডফোন বা ব্লুটুথ জাতীয় ডিভাইসগুলি। তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ এই ডিভাইসগুলোর ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে এগুলো ছাড়া তাদের একটা দিন কাটানোও সম্ভব নয়। এখন যে প্রযুক্তিটি নিয়ে কথা বলব তা হলো “বোন কনডাকশন হেডফোন” যদিও তা আর ১০ টা হেডফোন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।এর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি হলো হেডফোনটি ঠিক কানের ওপর লাগানো হয় না।কানের সামনের চোয়ালের ওপর লাগানো হয়। ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত শোনায়, হেডফোন যদি কানের বাইরে লাগানো হয় তবে তা দিয়ে শব্দ কিভাবে শোনা যাবে?এটা বুঝতে হলে আমাদেরকে প্রথমে মানুষের শ্রবণ প্রক্রিয়াটি বুঝতে হবে।

ওপরে মানুষের কানের গঠন দেখানো হয়েছে। এখানে পিনায় সংগৃহীত শব্দতরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দায় আঘাত করেলে তা কেঁপে ওঠে।কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস,ইনকাস ও স্টেপিস নামক অস্থি তিনটি আন্দোলিত হয়। ফলে প্রথমে ফনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে তা ককলিয়ার পরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি করে। এখানে স্নায়ু উদ্দীপ্ত হয় ও পরে তা অডিটোরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌছালে শ্রবণ অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

এবার আসা যাক বোন কনডাকশন টেকনোলজিতে। এখানে ট্রান্সডিউসারগুলো শব্দকে সোজা মানুষের চোয়ালের হাড়ে ঢুকিয়ে দেয়। যাতে ওই শব্দ সরাসরি তার ককলিয়াতে প্রবেশ করে। অতঃপর তা অডিটোরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌছায়। ফলে অনুভূতি হয় মাথার মধ্যে গলার আওয়াজ পাওয়ার মত যা সত্যিই বিস্ময়কর।

Beethoven′s Fifth Symphony: The truth about the ′symphony of fate ...

যদিও এই টেকনোলজিটি আমাদের কাছে নতুন কিন্তু এর আবিষ্কার হয় আঠারো শতাব্দীতে বিখ্যাত কম্পোজার লুদভিগ ভ্যান বিঠোফেনের হাতে। তিনি বধির হওয়ার পর আবিষ্কার করেছিলেন নিজের পিয়ানোয় একটা মেটাল রড যুক্ত করলে এবং বাজানোর সময় ওই রড কামড়ে ধরলে চোয়ালের হাড়ে যে কম্পন তৈরি হয় তার সাহায্যে তিনি নিখুঁতভাবে শুনতে পান।

এই বোন কনডাকশন হেডফোনটি দ্বারা লাভবান হবে যারা কানে কানে শুনতে পান না তারা। আবার সাধারণ মানুষের জন্যেও এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক। ইয়ারফোন কানে নিয়ে রাস্তাঘাটে চলা বা জগিং এ যাওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা,কিন্তু বাইরের শব্দ একদমই কানে প্রবেশ না করায় তা অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাড়ায়।এই হেডফোনটিতে চলার সময়ও যেমন আপনি আপনার প্রিয় গান উপভোগ করতে পারবেন তেমন বাইরের পরিবেশ সম্পর্কেও সজাগ থাকতে পারবেন।

হেডফোনটিতে গান শোনার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি বিষ্ময়কর ও ব্যতিক্রম। যদিও সাউন্ড কোয়ালিটি এখন পর্যন্ত এভারেজ,খুব ভালোও না আবার খুব খারাপও না।নতুন প্রযুক্তি হিসেবে এখনও খুব একটা সহজলভ্য নয় সবার জন্য। এই হেডফোনের প্রাইজ রেঞ্জে অনেক ভালো সাউন্ড কোয়ালিটির হেডফোন পাওয়া সম্ভব। যদিও তাতে এই টেকনোলজি পাওয়া যাবে না। তবে যেহেতু এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি টেকনোলজি, সচারাচর ট্রেডিশনাল হেডফোনের সাথে এটি তুলনা না করায় ভালো।

যারা সবসময় নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করতে ভালোবাসেন।তাদের এই নতুন প্রযুক্তিটি একবার হলেও ব্যবহার করে দেখা উচিত। সাধারণ মানুষ হা হয়ে তাকিয়ে থাকবে এর দিকে। আবার নতুন এক্সপেরিমেন্টের বা ভিন্ন স্বাদের জন্য হলেও এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

ইয়াসমিন শিরি
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here