ঘোরলাগা চোখে নিচে তাকিয়ে আছে ও।বমিতে ভেসে যাচ্ছে পুরো মেঝে। বড্ড ক্লান্ত লাগছে। মুখটা বিশ্রি রকমের তেতো হয়ে আছে। বেসিন অব্দি যাওয়ার শক্তি নেই। ক্ষুধা পেয়েছে নাকি? বুঝতে পারে না। বোধ শোধ কিছুই অনুভব করতে পারে না। আর, কাশির দমকটা আবার উঠতে উঠতে থেমে যায়। বমি আর রক্তে চিটচিট করছে সারা গা। কুসুম গরম পানিতে ঘন্টা খানেকের শাওয়ার নিতে পারলে ভালো লাগত। তারপর এক কাপ আগুন গরম কফি…..দাপ..দাপ…দাপ…

কোথা থেকে আসছে শব্দটা? নাকি লাব – ডাব? নিজের হৃদয় যন্ত্রেরই শব্দ? বোঝা যায় না কিছু। কতক্ষণ ধরে পরে আছে এই ঘরে? নাকি কতদিন? বড্ড নিঃশব্দ চারদিক..নাহ, ধ্যাত ছাই..শব্দটা কোথা থেকে আসছে?
আর থাকা যায় না। মেঝেতে শুকনো বমি আর বিছানার পাশে বাসি লাশ নিয়ে আর কতক্ষণ থাকবে ও? মাছি আর পিপড়ার মচ্ছব লেগেছে যেন। এই কুৎসিত পরিবেশে কি করে আছে সে? কিছুদিন আগে ও ই তো এক চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক এর হাত থেকে মাইক কেড়ে বলেছিল,পরিষ্কার করো এ সব। বড্ড ময়লা চারদিকে। বড় বড় মাথাগুলো তখন একটু যেন নিচু হয়ে গিয়েছিল। তারই ক্ষোভে কি আজ…নাহ, খুব তেষ্টা পেয়ে গেল দেখছি…

বাইরে দরজা ভাঙা হচ্ছে। ভেতরে ওর দেহটার কি অবস্থা বলতে পারবো না, তবে চোখ দুটো এখনো জ্বলন্ত, জীবন্ত। যেন আদেশ দিচ্ছে, সাফ করো এসব
‘আরে,এ তো মি….’
‘চুপ..শশশশ….’
নাকে রুমাল চাপা দিতে দিতে কেবল সেই সাংবাদিকটা বললো,’এহ..বড্ড নোংরা চারদিকে’

ইত্তেফা জাহান জীম
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ