কথা বলব উজ্জল গোলাপী বর্ণের এই ফলটি নিয়ে যা আমাদের দেশে ড্রাগন ফল হিসেবে সুপরিচিত । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফলটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ব্যাপকহারে চাষ করা হয় ।বাংলাদেশেও দিন দিন ফলটির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ও চাষাবাদ শুরু হয়েছে।

ড্রাগন Hylocereus Undatus How শ্রেণীর ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ। ড্রাগনের উৎপত্তি নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।সম্ভবত মধ্য আমেরিকা বা দক্ষিণ মেক্সিকোতে ।সেখানে এটি পিতায়া নামে পরিচিত ,স্প্যানিশ উচ্চারণ পিতাহায়া।এছাড়াও বুয়া নাগা,পিংক স্ট্রবেরী ,ড্রাগন ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

ড্রাগন অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। এর ৬০ শতাংশ ক্যালরি ।এছাড়া আছে ভিটামিন সি, মিনারেল, প্রোটিন ,ক্যালসিয়াম, ফাইবার ইত্যাদি ।প্রচুর পরিমাণে এ্যন্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

হ্রদযন্ত্রের সমস্যা হ্রাস,হজমজাতীয় সমস্যা সমাধান, আরথ্রাইটিস নিরাময়,কোলস্ট্রেরল নিয়ন্ত্রণ ও ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে ফলটি ভূমিকা রাখতে পারে।তবে যাদের ডায়বেটিকস আছে তাদের অবশ্যই পরিমিত পরিমাণ বজায় রাখতে হবে।

প্রিয় | ইন্টারনেট লাইফ

শহরাঞ্চলে এখন ছাদকৃষি কৃষির অন্যতম মাধ্যম।টবে লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার জন্য ছাদকৃষিতে ড্রাগন চাষ সুপরিচিত।একবার মাত্র লাগানোর পর বছরব্যাপী ফল আসা ও অনেক বেশি ফলনের জন্য বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপকহারে ড্রাগন চাষ শুরু হয়েছে ।শুরুর দিকে মূল্য অনেক বেশি থাকলেও এখন প্রায় নাগালের মধ্যে।প্রতি কেজির মূল্য আকৃতিভেদে ৮০০-২০০ টাকা এর মধ্যে পাওয়া যায়।

চাষ পদ্ধতির শুরুতে গাছ লাগিয়ে মাচা বানানো হয়।গাছের শক্ত কাণ্ড না থাকায় গাছের জন্য মাচা বানানোর দরকার হয়। মাচার বদলে খুটির মাথায় টায়ার বেধে দেয়া বেশি সুবিধাজনক। গাছের জন্য রোদ্রজ্জল পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ । বেশি পানি জমে থাকা ক্ষতিকর। প্রথমবার কুড়ি আসার পর থেকে প্রতিনিয়ত কুড়ি আসতে থাকে। বারমাস গাছে ফল আসে তবে শীতে কম। এমনও হতে পারে একই ডালে একসাথে পাকা ফল ও ফুল হয়ে আছে।

অত্যন্ত পুষ্টিকর ফলটি আমাদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সক্ষম।চাষ লাভজনক হওয়ায় তা কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারবে। এই করনাকালীন বা পরবর্তী সময়ের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এটি সহায়ক।

ইয়াসমিন শিরি 
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।