উদ্যোক্তা’ শব্দটি বেশ জটিল মনে হতে পারে। তবে আপনি জানেন কি, আপনার মাঝেই একজন উদ্যোক্তা সুপ্ত আছে? এ শতাব্দিতে এসে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে শত শত স্টার্ট আপ আইডিয়া। উদ্যোগ নিয়ে কাজটি শুরু করার জন্য শুধু প্রয়োজন মুলধন আর একটু জ্ঞান। তবে সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আরেকটি খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান দরকার, আর তা হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা। স্রোতের দিকে বা বিপরীতে যেকোনো উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে দরকার এই উপাদান।তাই উদ্যোগ নেয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে- আমি কি শুধুই উদ্যোক্তা? নাকি উচ্চাকাঙ্ক্ষী?

তবে এটা এখনো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটু ভিন্ন! কখনো কখনো একটু ভিন্ন পথে এগিয়েও প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়, অন্যের জন্য কর্মসংস্থান করা যায়।তাই হতাশ হওয়া যাওয়া যাবে না,আশা রাখতে হবে আর কাজ করতে হবে। আর সবসময় মাথায় রাখতে হবে এমন তরুণদের কথা—যারা ভিন্নভাবে ভেবেছেন এবং সফল হয়েছেন।

আর চেষ্টা করতে হবে একটি যথাযোগ্য প্লাটফর্ম তৈরী করার, এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ উদ্যোক্তারাই হবে মুল শক্তি।

তবে মাথায় রাখতে হবে যে দেশে সরকারি চাকুরিতে যোগদান ক্যারিয়ারের “সেরা সাফল্য” এবং এই সাফল্যের গল্পে সংবাদ পত্রের পৃষ্ঠা ভরে যায়, সে দেশে সৃষ্টিশীল কাজ, উদ্যোমী উদ্যোক্তা আশা করেন কিভাবে? জানি গরিব দেশ – সবাই একটা নিশ্চিত জীবন চায়, একটা নিরাপদ চাকুরি চায়, নিজের সম্ভাবনা বিসর্জন দিয়ে হলেও। সরকারি চাকুরিতে অবশ্যই দেশের অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণীও যায়, এবং যেতেই হবে। তবে এটা হওয়া উচিত ছিলো একটা ভগ্নাংশ মাত্র। যদি একটা দেশে মেধাবীদের প্রধান লক্ষ্যই হয়ে উঠে সরকারি চাকুরি, তখন বুঝতে হবে দেশটির অসুখ গভীর।

তাই যতটা সহজ এই ভাবা ঠিক ততটা না শূন্য হাতে শুরু করার মতো অনকটা। সেখান থেকে আপনি হবেন কোনো একদিন সফল উদ্যোক্তা। ক্রমে হয়ে উঠবেন আপনি আইকন। তবে বাংলাদেশে মিডিয়া যদি এলাইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উচিত ছিলো। দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং কিছু কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব রাখছে এদেশের মিডিয়া। লেখাপড়া শেষ করে, চাকরির অপেক্ষা না করে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য লেগে থাকতে হবে।সমকালীন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরী করতে চাইলে উদ্যোক্তার বিকল্প নাই।।

যেমন ডিজিটাল বাংলাদেশে আজ সুযোগ পাচ্ছে উদ্যোক্তারা যথেষ্ট। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সরকার যথেষ্ট আন্তরিক তবে আরো হওয়া উচিত ছিলো। আর্থ-সামাজিক স্বচ্ছলতা উদ্যোক্তা হওয়ার পথে একজনের যাত্রাকে সহজ করে দেয়। তবে কোনো ধরনের সমর্থন ছাড়াও যে কেউ উদ্যোক্তা হতে পারে এটার উদাহরণ দেশে অনেক আছে।যেমন নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জটিল পদ্ধতিকে অন্যতম প্রধান সমস্যা বলে মনে হয়৷ আমার।যেটা দূর করা উচিত।উদ্যোক্তাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য এরকম দীর্ঘ ও জটিল পদ্ধতির ছোট ছোট সহজ সমাধান তৈরী করা উচিৎ বলে মনে করি।একজন উদ্যোক্তা তার পথ নিজে তৈরী করেন। এখানে ঝুঁকির সম্ভাবনা শতভাগ। তাই যারা এপথে হাঁটার সাহস করেন, তাদেরকে সবার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেয়া উচিৎ।

 

আলিফ আল আজাদ
বোটানি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়