অধিকাংশ নির্বোধেরা ব্যর্থতার বিশ্লেষণে নিজেদেরকেই দোষী মনে করে। ভেবে দ্যাখে না কিছু ভণ্ড ভণ্ডামি করছে, কিছু ‌আনাড়ি ভুল করেছে, কিংবা কোন শত্রু শত্রুতা করেছে, অথবা, ব্যবস্থার নির্মম বলি সে। আবার আরণ্যিক নির্বোধগণ অন্য কোন সত্তা বা কল্পিত ভাগ্যকে দোষ দেন এবং নিঃশর্তে মেনে নেন। কিন্তু অন্যায়কে মেনে নিতে বলার দুঃসাহস কোথা থেকে পান? পান তারা অন্যায়কে আশ্রয় করে টিকে আছেন বলেই। তাদের বুকে জোড় নেই বলে। কত বড় দুঃসাহস থাকলে অবিচার অন্যায়কে মেনে প্রশ্রয় দিতে বলতে পারেন! পারেন কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যেসব কলেছাটা সার্কাসের খেলোয়াড় তৈরি করে তাদের ঐ কামানের গোলা গেলা ওগড়ানোর বাইরে কোন শক্তি নেই। নিজের কাজ কে কিংবা নিজেকে নিজে মূল্যায়ণ করার সক্ষমতা তাদের নেই। তারা তাদের ওস্তাদের স্বীকৃতি আর দর্শকের হাততালি ভিন্ন কিছুই বোঝে না! আর তার অব্যাহত ফল । দুশ বছরে কত সহস্র টন উত্তরপত্র তৈরি হ’ল আর আগামী কুড়ি বছরে যে কত শত শত মেট্রিক টন উত্তরপত্র সাদাপাতায় কালো কালিতে বর্ণমালায় চিত্র আর সংখ্যায় ভরে উঠবে তাতে দেশের বিন্দুবৎ কল্যাণসাধন হবে না! উত্তরপত্রগুলো আলোকলিপি তৈরির হাতেগড়া বিকল্পমাত্র। এই ওই চোথা , চটিবই, আর দুএকটা ভারি বইয়ের কয়েকটা চোরাগুপ্তা চরণের সংকলন বা জগাখিচুরি মাত্র । ওসব উত্তরপত্র প্রকাশ করা গেলে তা বিনোদনে সক্ষম হলেও হতে পারে। তবে অধিকাংশ উত্তরপত্রই বৈচিত্র্যহীন খোদারখাসির যপমন্ত্র মাত্র। বরং যদি কেউ তার সবচে সুরক্ষিত ও মূল্যবান অঙ্গ মস্তিষ্কের সদ্ব্যবহার করেন। অর্থাৎ উত্তরপত্রে মৌলিকতা আনেন, তবে ভষ্মে ঘি ঢালা বা উলুবনে মুক্তো ছড়ানোর অভিযোগে তার উত্তরপত্র কচুকাটা করা হবে। কেননা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এমন যে তা মগজকে ছাচে ঢেলে বানাতে চায় । যদি কেউ আত্মশক্তিতে আস্থা রাখেন , তবে তাকে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ কেবল শারমেয়শাবক বলে আড়ালে গালমন্দ করেই তুষ্ট হন না, তারা সম্ভবত মাতৃসম্ভোগকারীর মত অশ্লীল অনৈতিক গালিও দেন। কেননা তাদের না আছে নৈতিকতা না মেরুদণ্ড। এরপরও তাদের তৃপ্তি হয় না । অন্তরের অতৃপ্তি নিয়ে মস্তিষ্কে আস্থারাখা শিক্ষার্থীকে মনে মনে বক্ষপিঞ্জরের পর্শুকাভাঙা লাথি কষেন। তারপর খাতাটিকে কচুকাটা করে , শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য থেকে কম দিয়ে মনের ঝালকে প্রশমিত করার অপপ্রয়াস চালান। এভাবে সহস্র শিক্ষার্থীর মাঝে দুএকজন আত্মশক্তি ও মগজে আস্থারাখা শিক্ষার্থী গড্ডলিকার ক্ষীণস্রোতে হারিয়ে যান। রাগে ক্ষোভে অনেকে আত্মহত্যা করেন। হয়ে যান তারা সংখ্যামাত্র। আর যারা তারপরও টিকে থাকেন তাদেরকে উপহাস করতে করতে আর করুণার পাত্র হিশেবে উপস্থাপন করতে করতে ধুঁকে ধুঁকে মরবার আয়োজন করা হয়। তারপরও যদি কেউ টিকে থাকেন তার হয় গলার জোর থাকে না। নয়তো কন্ঠরোধ করা হয়।

 

মুবাশশির আলম
বাংলা বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here