স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কথাটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। আমরা সবাই কমবেশি স্ট্রেস নেই। কেউ পরীক্ষা নিয়ে নেই, কেউ অফিসের ডেডলাইন এর আগে কাজ শেষ করার জন্য নেই, কেউ পারিবারিক কারণে আবার কেউবা প্রেমের জন্যও নেই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি এই যে আমরা কারণে অকারণে এত মানসিক চাপ নেই সেটা আমাদের জন্য ভাল না খারাপ। তাহলে চলুন আজকে জেনে নেই স্ট্রেস কি শুধুই মানসিক অশান্তির জন্য দায়ী নাকি আরও ভয়াবহ ক্ষতি করে চলেছে আমাদের।

ক্ষনস্থায়ী স্ট্রেস আমাদের জন্য কিছুটা উপকারী বটে। আমাদেরকে সতর্ক রাখে, আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য তাড়না দেয়। আমরা সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করতে পারি। কিন্তু এই স্ট্রেসকে যদি আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাথী বানিয়ে ফেলি, সে আমাদেরকে একটু একটু করে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়।

স্ট্রেস এর কারণে আমাদের অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ড থেকে কর্টিসোল, এপিনেফ্রিন, নরএপিনেফ্রিন হরমোন রিলিজ বেড়ে যায়। এপিনেফ্রিন এবং নরএপিনেফ্রিন আমাদের হার্ট এবং রক্তনালীর উপর প্রভাব ফেলে। এরা- # হার্টবিট বাড়ায় # রক্তনালী সংকুচিত করে # হার্ট এর কন্ট্রাক্টিলিটি বাড়ায় এর ফলে আমাদের উচ্চরক্তচাপ দেখা যায়। শুধু তাই নয় এরা এথেরোস্ ক্লেরোসিস ( রক্তনালীর ব্লক) এর রিস্কও বাড়ায়। এতে ব্যাক্তির হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোক এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস এ কর্টিসোল আমাদের ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহণের প্রতি আসক্তি বাড়ায়। এতে আমাদের স্থুলতা দেখা দেয় এবং বেলি ফ্যাট বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও কর্টিসোল আমাদের ব্লাডসুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়। এবং আমাদের দেহে ইনসুলিন রেসিস্টেন্ট এর সৃষ্টি করতে পারে। যার ফলস্বরূপ ডায়াবেটিস এর দেখা দেয়।

ইদানিং টিভিতে করোনা রোগের এর চিকিৎসার ব্যাপারে অনেকেই বলেন স্ট্রেস কম নিতে। এটার কারণ কি হতে পারে? এর কারণ অতিরিক্ত স্ট্রেস আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। যার জন্য আমরা বিভিন্ন রোগ এবং ইনফেকশন এর প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে যাই। সহজেই রোগবালাই আমাদেরকে কাবু করে ফেলতে পারে।

স্ট্রেস এমনকি আমাদের জিনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। স্ট্রেস এর ফলে আমাদের জিন এক্সপ্রেশন ( জিন থেকে প্রোটিন তৈরি হওয়া যা আমাদের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে)ও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত জিন এক্সপ্রেশন হয় এবং অনেক সময় অনেক প্রয়োজনীয় জিন এক্সপ্রেশনে ব্যাঘাত ঘটে। এসব ছাড়াও স্ট্রেস এর আরও অনেক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। যেমন- **ক্যন্সার এর বৃদ্ধিতে, কনভেনশনাল ক্যান্সার ট্রিটমেন্টের প্রতি রোগী র রেসিস্টেন্ট তৈরীতে। ** পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিতে। **অ্যাজমা, প্যানিক অ্যাটাক ** ডিপ্রেশন এবং অন্যান্য মানসিক রোগ সৃষ্টিতে।

তাই আমাদের সবার উচিত মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। যাতে আমরা একটি সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে পারি। এর জন্য আমরা নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করা, সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো, নিয়মিত প্রার্থনা করা, নিজের শখের কাজগুলো করা ইত্যাদি ব্যাপারে নিজেদেরকে সচল রাখতে পারি। এরপরও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ না হলে অবশ্যই ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া উচিত।

সবশেষে বলব নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য হলেও মানসিক চাপ কম নিতে চেষ্টা করুন, প্রানখুলে হাসুন, জীবনকে উপভোগ করুন। স্ট্রেসকে হারিয়ে প্রানখুলে বাঁচুন।

সুস্মিতা দাস বৃষ্টি
ফার্মেসি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here