ফলাফলই দশ কথার শেষ কথা। ফল ভালো যে বৃক্ষের সে বৃক্ষই মূল্যবান! বৃক্ষের গুণ কি কেবল ফলেই? ফলেই যদি হবে তবে বৃক্ষের সফলতার বিচার ফলাধিক্য না কি ফলের গুণগত মান না ফলের রঙ,সৌরভ,স্বাদ,আকার অথবা কেবলই ফলের উপযোগিতার ভিত্তিতে নির্ণয় করা হবে? আম গাছের সাথে আরেকটা আম গাছের কি তুলনা সম্ভব? ফজলি আমের আকার আকৃতির বিশালতার পাশে গোপালভোগ তো বেশ ছোট। কিন্তু স্বাদের বিচারে গোপালভোগ আমকে ফজলি আম কী করে টেক্কা দেবে? আবার দুটো গোপালভোগ বা দুটো ফজলি আমের গাছের তুলনায়ই বা কী করে সম্ভব হবে ? যদি দুটো গাছের বয়স একই হয় তাতে কি মাটি তো আলাদা হতে পারে নোয়াখালি , নাটোর, নরসিংদী, নবাবগঞ্জ,নেত্রকোণা,নীলফামারী, নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ,নড়াইল নয়টা জেলার নামই ন দিয়ে আরম্ভ এই ‌নয় জেলায় একই গাছের ‌নয়টি আমের আঁটি একই দিনে বপণ করলে নয় বছর পর যদি নয়টি জেলার নয়টি গাছ থেকে নয়টি আম যদি নিই। নিঃসন্দেহে নয়টার স্বাদ অভিন্ন হবে না! নবাবগঞ্জের মানুষের ভাষার মতই মিষ্টি আর সরস আম কি দক্ষিণের নোয়াখালী অঞ্চলে হবে? না তা হওয়ার কথা না! নয় বছর নয়টি জেলায় আমগাছগুলোর নয়টিই নাও বেঁচে থাকতে পারে। আবার যদি উত্তরের নীলফামারীর সাথে নবাবগঞ্জের তুলনা করি তাতেও খানিক তফাৎ থাকবে। তেমনি মানুষে মানুষে আছে বৈসাদৃশ্য। কখনও দুজন মানুষের উত্তর অভিন্ন হওয়ার কথা নয়, যদি হয় তবে ধরে নিতে হবে প্রশ্নটির গুণগত মান অনুন্নত। এমন প্রশ্ন প্রশ্নকর্তার জানার ইচ্ছেকে তুলে ধরতে পারে ঠিকই তবে তার দায় এড়ানো বা অজ্ঞতাকে আড়াল করতে পারে না। যার কাছে যা ভালো হয় তা না চেয়ে জোর করে একই জিনিস আদায়ের চেষ্টার দ্বারা আসলে সময় শ্রম আর সম্পদের অপচয় ভিন্ন অন্য কিছুই হয় না। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশ্নপত্রগুলো দেখলেই বোঝা যায় সেগুলো কী চায়! আর উত্তরপত্রগুলো পেলে দেখা যাবে যে সেগুলো বাজারে প্রচলিত নকল পুস্তক আর নোটবইগুলোর হাতেলেখা সংস্করণমাত্র। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেই যেখানে উত্তরপত্রে বৈচিত্র্য থাকে সেখানে বৈশ্বিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরপত্রগুলো নানা মাত্রায় বৈচিত্র্য তো বটেই রীতিমত বৈপরীত্য আর বৈপরীত্যের দ্বন্দ্বে ভরে ওঠার কথা। না, তা হয় না, কারণ শিক্ষগণ চৌবাচ্চায় সাঁতরাতেই হিমশিম খান অগাধ জলে তাদের ডুবে মরা যে নিশ্চিত । কিন্তু তার প্রতিকার কী? ধরা যাক একজন ব্যক্তি বারবার মার খাচ্ছেন তবু তিনি কোন প্রতিক্রিয়া করছেন না। তার মানে এই নয় তিনি মজা পাচ্ছেন। বরং তার চেতনাই লুপ্ত হয়েছে। চেতনালুপ্ত মানুষ কর্মে যান্ত্রিক দক্ষতা দেখাতেই পারেন। তার মানে এই নয় তিনি উন্নত মানুষ। বরং তাকে মানুষ নয়ই বলা চলে । কেননা চেতনাহীনতা বা অনুভূতিশূন্যতা মানবিক বিষয় নয়। তা অমানবিক । তাহলে আমাদের মানবিক অনুষদ আর বিভাগগুলো ভেঙ্গে উপপ্রকৌশলী বা মেরামতকারী নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠান খোলাই লাভজনক। আমি এত কিছুর পরও এটা আশা করি মানুষের হৃদয়বৃত্তি জাগ্রত হবে। কিন্তু মস্তিষ্ক যে ভাগারের চেয়েও অধিক মৃত্যু আাস্তাকুঁড়ের ধারণক্ষমতার আটগুণ বেশি আবর্জনা ধারণ করে তাতে শুভ বুদ্ধির আশ্রয় কিংবা উদ্ভব অতি উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনাভিন্ন অন্য কিছু হতে পারে না।