সন্ধ্যার আকাশের লালচে মেঘ দ্যাখেন নি কখনও? সন্ধ্যার মেঘমালা বড্ড সুন্দর। সুন্দরের সাধনা কে না করে? হয়তো আপনিও করেছেন । দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিতাজ্য। অথচ বিদ্বান নয়, আজকাল তারকারা কাম্য। বিদ্বান দুর্জন হওয়া দুরুহ। তারপরও হতে পারে, আর হ’লে সে বর্জনীয়। আর আজকালকার তারকারা পর্দায় কেবল শরীর আর চেহারা দেখিয়েই তারকা হ’য়ে উঠছেন। অনেক তারকা শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে পারেন না। উচ্চারণ ঠিক থাকে না। ব্যাকরণ মানার তো প্রশ্নই ওঠে না। তারা অবশ্য বিদ্যায় যতটাই সমৃদ্ধ হোন না কেন সনদে বড্ড ধন্য। তাদের বিভাগ আর সনদপত্রের মান দেখে বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুবই বেশি। কিন্তু তাদের যা নেই , তার একটা হ’ল চরিত্র , অন্যটা নৈতিকতা। তারা মানুষকে ভালোবাসেন না ,ভালোবাসেন খ্যাতি আর অর্থকে। অথচ তারা যদি কেবল তিন বর্ণের শব্দ “মানুষ” এর মূল্যটা কেবল বুঝতেন! তবে তাদের আর মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করা যেতো না। কিন্তু আজকের তারকাদের দেহ আছে আছে, চেহারা নজরকারা , মগজের দৌড়াত্ম্যও যে নেই ,তা নয় ; নেই কেবল হৃদয় বৃত্তি বা মানবিকতা। বীরের বিচার কর্মে, সাধুর বিচার ধর্মে, অভিনেতার বিচার অভিনয়ে, গায়কের বিচার গায়কীতে, নেতার বিচার নেতৃত্বের গুণাবলি আর নেতৃত্বের ক্ষমতায়, দৃঢ়তায়,নৈতিকতায়। একজন শিক্ষার্থীর যথাযথ বিচার হতে পারে তার চরিত্রে আর জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ও অর্জিত জ্ঞানের উপর। ফলাফল কেবল পরীক্ষার্থীকে চেনাতে পারে শিক্ষার্থী আর পরীক্ষার্থী মোটেই এক নয়।

ভালো জিনিস ভালো লাগবেই। ‌মানুষকে বেছে নিতে হলে , অনেকের চেয়ে উত্তম ই চাইবো। যে যাই বলুক মেনে নিতে হবে যে, আগে দর্শনদারী, পরে গুণ বিচারি। কিন্তু সেই আদিম লোকের মত ককেশীয় সৌন্দর্যের জন্য কাঙালপণা একুশ শতকে এসে পশ্চাৎযাত্রা বলেই বিবেচ্য। তারপরও তারকার স্বপ্নে বিভোর তারুণ্য যদি কাজের কৃতিত্ব আর শ্রমের মূল্য বুঝতে পারে , তবে তা আমাদের জন্য সম্ভবত কল্যাণকরই হবে।

কথায় নয় কাজে, শরীরের সৌন্দর্যে নয় শরীর ব্যবহার করে কিছু করায় , মগজের স্বীকৃতিতে নয় তার ব্যবহারে মানবকল্যাণে যে মানুষের মঙ্গল এই সত্য অনুধাবনে সক্ষম হোক সবাই। নয়তো অডিও প্লেয়ার, গোবর গণেশ, মিছরির ছুরি, শিয়াল পণ্ডিত, প্রভৃতি নেতিবাচক অভিধা বা বাগধারাগুলো যথার্থ হতে থাকবে তারকাদের উপমা হিশেবে।

“শেষ কহে, একদিন সব শেষ হবে,

হে আরম্ভ, বৃথা তব অহংকার তবে।

আরম্ভ কহিল ভাই, যেথা শেষ হয়

সেইখানে পুনরায় আরম্ভ-উদয়।”

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মুবাশশির আলম
বাংলা বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়