বিশেষ করে ভ্যাটের ক্ষেত্রে একটা পেশাগত নৈতিকতা হলো, আপনি আপনার ক্লায়েন্টকে সঠিকভাবে আইন মেনে ভ্যাট প্রদান করা শেখাবেন। ভ্যাট ফাঁকি দেয়া শেখাবেন না। আইন প্রয়োগ করতে যেয়ে আপনার ক্লায়েন্টের ওপর যেন কোনো অন্যায় না হয়, তিনি যেন কোনো হয়রানির শীকার না হন, এ বিষয়টি একজন পেশাদার হিসাবে আপনি নিশ্চিত করবেন। ক্লায়েন্টকে ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার পথ দেখিয়ে দেবেন না, তাকে ভ্যাট ফাঁকি দিতে উৎসাহিত করবেন না। আপনি যদি একজন দক্ষ পেশাদার হন, তাহলে এই নীতিতে থেকে আপনি আপনার ক্লায়েন্টকে অনেক সহায়তা করতে পারবেন। একটা ছোটো উদাহরণ দিই। আমি দেখেছি, একটা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট অডিট করে কয়েক কোটি টাকা আপত্তি দেয়া হয়। একজন কনসালট্যান্ট আইনের সঠিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দিয়ে সে আপত্তির প্রায় ৭০% মিটিয়ে ফেলেছেন। আপত্তি আইনসঙ্গত ছিল না। নৈতিকতার মানদন্ডে অবিচল থেকে আপনার ভূমিকা এমন হতে হবে। দক্ষতা, ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এ তিনটি বিষয় এখন আমরা ভ্যাট নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে নিয়েছি। এই তিনটি বিষয় মেনে চললে সরকার, ভ্যাটদাতা, পরামর্শক, চাকুরিজীবী সবার জন্য কল্যাণ হবে।  

আমি জানি, আপনারা অনেকেই বলবেন যে, আমাদের পরিবেশে তা সম্ভব না, মালিকেরা তা চান না ইত্যাদি। অনেক মালিক তা চান একথাও সঠিক। ভবিষ্যতের জন্যে কোনো ঝামেলার বীজ থেকে যাক এটাও মালিক চান না। তাই, তাঁকে বুঝানোর একটা ভূমিকা থেকেই যায়। এ ভূমিকা আপনাকে পালন করতে হবে। মালিক, কর্মচারী, কনসালট্যান্ট, ভ্যাট অফিসার সবাইকে নৈতিকতার এক লাইনে আসতে হবে; তা হলো আইনসঙ্গতভাবে ঠিক যেটুকু ভ্যাট সরকারের প্রাপ্য হয় তা প্রদান করা এবং আদায় করা। তাহলেই আমরা একটা পরিপালিত ভ্যাট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবো, ইন-শা-আল্লাহ্। (ড. মোঃ আব্দুর রউফ, ১১.০৭.২০২০)।