রফতানিমুখী উৎপাদনশীল শিল্পে কাজ করে যারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের জন্য সরকার নগদ কিছু অর্থ দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে অর্থ কতদিন দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, প্রাথমিকভাবে তিন মাসের কথা চিন্তা করা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। কত করে অর্থ দেওয়া হবে, এ ব্যাপারে সূত্রটি জানায়, আপাতত প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। আসছে সেপ্টেম্বর মাসে যেকোনো দিন এই অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে ঘোষণা আসতে পারে।

কোন ধরনের শ্রমিক এই অর্থ পাবেন তা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পোশাক শিল্প, চামড়া খাত শিল্পসহ আরও কয়েকটি রফতানিমুখী শিল্প রয়েছে বলে জানা গেছে। কী পরিমাণ শ্রমিক অন্তর্ভুক্ত হতে পারে তা নিয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ শ্রমিককে অর্থ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, এই অর্থের জোগানদাতা হচ্ছে ইইউ ও জার্মানি। তারা কর্মহীনদের জন্য ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মূলত এই অর্থ হাতে কোনো কাজ না থাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আর বিতরণের পদ্ধতি হবে ব্যাংক হিসাব কিংবা মোবাইল আর্থিক পরিষেবার (এমএফএস) মাধ্যমে।

কয়েক মাস করোনার কারণে বেশ কিছু রফতানিমুখী উৎপাদনশীল কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন রফতানি কমে গেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মজুরি কমানো হয়েছে। পাশাপাশি অনেক কারখানার শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে। এই কর্মহীন শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে ইইউ ও জার্মানি পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই দুটো উন্নয়ন সহযোগী মোট ১১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো দিচ্ছে। এর মধ্যে ইইউ’র পরিমাণ হচ্ছে ৯ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। বাকি ২ কোটি ইউরো জার্মানির অনুদান। তিন মাস আগেই এই দুটি সংস্থা সহায়তা দেওয়ার কথা জানায়।

এদিকে শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছেন কিংবা লেঅফ হওয়ার কারণে মজুরি পাচ্ছেন না এই ধরনের প্রায় ১০ লাখ শ্রমিককে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিমাণ শ্রমিককে তিন মাস ৩ হাজার করে দিতে হলে মোট ব্যয় হবে ৯০০ কোটি টাকা। শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করছে বিজেএমইএ ও লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। শনিবারের মধ্যে সব তালিকা পাঠানোর কথা বলে জানা গেছে।